হ্যালো বন্ধুরা,তোমরা কি জানো? আজকের এই নগর সভ্যতার যে সকল সুযোগ-সুবিধা গুলো আমরা উপভোগ করছি সে সকল সুযোগ সুবিধার ব্যবহার হাজার বছর পূর্বেও ছিল? এই ধারণা থেকে হয়তো অনেকেই অজ্ঞাত।
আজকে আমাদের জানার বিষয় হলো কি ভাবে এই নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে। আর এই নগর সভ্যতার সূত্রপাত হলো সিন্ধু সভ্যতা।
অর্ধ শতাব্দীরও কিছু পূর্বে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সিন্ধু প্রদেশের লারাকান জেলার মহেঞ্জোদারোতে এবং পাঞ্জাবের মন্টগোমারি জেলার হরপ্পায় প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কার্যের ফলে যে ধ্বংসস্তূপ আবিষ্কৃত হয় । তাতে জানা যায় মিশর ও ব্যাবিলনীয় প্রভৃতি সভ্যতার সমসাময়িক সিন্ধু সভ্যতা নামে এক ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা ৫০০০ বছর পূর্বে ভারতবর্ষে গড়ে উঠেছিল সিন্ধু নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল বলে এ সভ্যতা সিন্ধু সভ্যতা নামে পরিচিত।
খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দের পূর্বে তৃতীয় ব্রোঞ্জ যুগে ভারতের জনবহুল নগর, উন্নত দক্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান ,দূর রাষ্ট্র অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিত্র লিখন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এর নেতৃত্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগের লোকেরা ওই স্থানে বৌদ্ধস্তূপ এর ধ্বংসাবশেষ আছে বলে মনে করে খননকার্য শুরু করেন । এই খননকার্যে বেরিয়ে আস ত্রাম্য ও ব্রোঞ্জ যুগের নিদর্শন।
১৯২৪ সালে স্যার জন মার্শাল পশ্চিম ভারতের ( বর্তমান পাকিস্তান ) মহেঞ্জোদারো সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ উদঘাটন করেন।
সিন্ধু সভ্যতা শুধু হরপ্পা মহেঞ্জোদারো এ দুটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না । ঐতিহাসিকদের ধারণা পাঞ্জাব থেকে আরবসাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক এলাকায় সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল ।
অনুমান করা হয় যে সিন্ধু সভ্যতা সৃষ্টি করেছিল দ্রাবিড়রা।
এ সভ্যতা মূলত নগর সভ্যতা ছিল । মহেঞ্জোদারোতে ও হরপ্পায় রাস্তাঘাট দালানকোঠা প্রভৃতি সুপরিকল্পিত উপায়ে নির্মিত । উভয়নগরে মজবুত পাকা ইটের তৈরি ছোট-বড় মাঝারি আকৃতির দালানকোঠা দেখা যায়। রাত্রিকালীন আলোর ব্যবস্থা ও ছিল । বাঁধানো ও প্রশস্ত রাস্তার দু'ধারে আবাসিক স্থানগুলোর অভ্যন্তরে উপরে ওঠার সিঁড়ি বিদ্যমান ছিল ।
এই সভ্যতার বিরাট দালানকোঠা ও অট্টালিকা দেখে মনে করা হয় উক্ত এলাকাটি কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অধীনে ছিল।
সিন্ধু নদীর পানি ভূমিকে উর্বরতা দিয়েছিল।সিন্ধু নদী কে তখন পবিত্রতার এক অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
সিন্ধু সভ্যতায় ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা করা সম্ভব না । এখানে বিভিন্ন পোড়ামাটির মূর্তি পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হয় যে তাদের মধ্যে ধর্ম বিশ্বাস ছিল। বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য নারী মূর্তি পাওয়া গেছে । তখন মাতৃপূজা জনপ্রিয় ছিল।
সিন্ধু সভ্যতায় দু কক্ষ থেকে ২৫ কক্ষের বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে , দুই থেকে তিন তলা ঘরের অস্তিত্ব রয়েছে। মহেঞ্জোদারোতে একটি বিশাল মিলনায়তন রয়েছে।যার পরিমাপ ৮০ ফুট । এছাড়া পাওয়া গেছে এক বিশাল গোসলখানা যার মাঝখানে বিশাল চৌবাচ্চাটি ছিল সাঁতার কাটার উপযোগী।
ভাস্কর্যশিল্পে সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের ছিল দক্ষতা। এই সভ্যতার 13 টি ভাস্কর্য মূর্তি পাওয়া গেছে। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে পাওয়া গেছে ২৫০০ সিল ।
মহেঞ্জোদারোতে পাওয়া গেছে নৃত্যরতা এক নারীমূর্তি।
সিন্ধু সভ্যতায় যেসব শহর আবিষ্কৃত হয়েছিল তার মধ্যে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো ছিল সবচেয়ে বড় শহর । শহরে রাস্তা, রাস্তার পাশে ছিল ডাস্টবিন ,সড়ক বাতি ,পানি নেমে যাওয়ার জন্য ড্রেন সবকিছুই ছিল একেবারে সাজানো। পথের ধারে ছিল সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট।
অর্থাৎ ঐতিহাসিক এই সভ্যতাটি মূলত বর্তমান নগর সভ্যতার ইতিহাস যা আমাদের কল্পনার বাহিরে। কিন্তু এই কল্পনাটিকে বাস্তব রূপ দান করেছিল সে সময়ে অধিবাসীরা।




